জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে রাতারাতি বিপুল মুনাফা লুটে নেয়ার এক অভিনব ফন্দি উন্মোচন করেছে নাটোরের সিংড়া উপজেলা প্রশাসন। মাটির নিচে পানির ট্যাংক পুঁতে, তার ভেতর হাজার হাজার লিটার ডিজেল লুকিয়ে রাখার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরের দিকে উপজেলার নিংগইন এলাকায় পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে এই অবৈধ মজুতের সন্ধান পাওয়া যায়। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, নিংগইন ভাটোপাড়া মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত একটি বাঁশঝাড়ের নিচে অত্যন্ত সুকৌশলে একটি পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছিল। বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় ছিল না যে, এই নীরব বাঁশঝাড়ের নিচেই লুকিয়ে আছে জ্বালানি তেলের বিশাল এক ভাণ্ডার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাতের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান চালায়। মাটি খুঁড়ে সেই ট্যাংকের ভেতর থেকে প্রায় ১০ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে, সততা ট্রেডার্স নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রুবেল হোসেন এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত করেছিলেন। বাজারে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পরবর্তীতে চড়া মূল্যে বিক্রির অসৎ উদ্দেশ্যেই তিনি এই অভিনব পন্থা বেছে নেন বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। এই গুরুতর অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবসায়ী রুবেল হোসেনকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে। সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত গণমাধ্যমকে জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং ঘটনার শতভাগ সত্যতা মিলেছে। অবৈধভাবে মজুত করে রাখা এই বিপুল পরিমাণ তেল জনসমক্ষে আনার পর, জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি ব্যবসায়ীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ১০ হাজার লিটার ডিজেল অবিলম্বে তার দোকানে স্থানান্তর করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রির সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। জনস্বার্থে পরিচালিত এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে ইউএনও ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ এবং উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. তাশরিফুল ইসলামসহ অন্যান্যরা। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের এমন কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন জনবিরোধী অপতৎপরতা অনেকাংশেই রুখে দেওয়া সম্ভব হবে।
Lifestyle News
লোড হচ্ছে...
Business
Lifestyle
Travel
Sport
Entertainment
Lifestyle
Loading...
Videos
Photos
Videos
Recent post
ঢাকাস্থ নোয়াখালীর সাধারণ শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক ও সেবামূলক সংগঠন নোয়াখালী জেলা ছাত্র ছাত্রী কল্যাণ পরিষদ (সরকারি বাঙলা কলেজ)–এর উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১২ রমজান, সোমবার আয়োজিত এ ইফতার মাহফিলে ঢাকায় অবস্থানরত নোয়াখালী জেলার শিক্ষার্থীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয় অনুষ্ঠানস্থল। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন হাতিয়া দ্বীপ সমিতি–এর সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং হাতিয়া যুব ফোরাম–এর সদস্যরা। এছাড়াও নোয়াখালী জেলার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে সহযোগিতা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংগঠনের সভাপতি তানভীর হাসান শুভ বলেন, “নোয়াখালী জেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্মান ও সংরক্ষণে আমরা সবসময় বদ্ধপরিকর।”
এ সময় সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত জামিল বলেন, “নোয়াখালীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সবসময় আমাদের পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে থাকেন। তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবো।”
ইফতার ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে নোয়াখালীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা আরও একবার স্পষ্টভাবে উঠে
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মিরপুর কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও কলেজের স্টাফদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেছেন মিরপুর কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক (দাপ্তরিক দায়িত্বপ্রাপ্ত) অনিক ইসলাম সাইফ।
মঙ্গলবার (২ মার্চ) কলেজ প্রাঙ্গণে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই উপহার সামগ্রী তুলে দেন। উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি এই কর্মসূচি পালন করেন।
উপহার বিতরণকালে অনিক ইসলাম সাইফ বলেন:
"সংকট ও সংগ্রামে যারা পাশে ছিল, উৎসব আর উল্লাসেও তারা আমাদের কাছে থাকুক এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখেই আজকের এই ক্ষুদ্র আয়োজন। সাধারণ শিক্ষার্থী ও কলেজের মেহনতি স্টাফরা আমাদের পরিবারের অংশ। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমি আনন্দিত।"
উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এই সংস্কৃতি ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করবে। উপহার পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কলেজের সহায়ক কর্মীরাও।
উল্লেখ্য, অনিক ইসলাম সাইফ দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় এবং চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবার এক নতুন এবং ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তরফ থেকে একটি চাঞ্চল্যকর দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, যা গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের এক যৌথ ও অতর্কিত সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এবং ইসরায়েলের প্রভাবশালী গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর দেওয়া তথ্যমতে, পুরো বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের উচ্চপর্যায়ে ব্যাপক তৎপরতা চলছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মৃতদেহের ছবি ইতোমধ্যে দেখানো হয়েছে। ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, খামেনি তার নিজস্ব বাসভবন বা প্রাসাদের সুরক্ষিত কম্পাউন্ডেই অবস্থান করছিলেন এবং সেখানেই এই প্রাণঘাতী হামলার শিকার হন তিনি। পরবর্তীতে ইরানি উদ্ধারকারী দল ওই ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে বলেও তারা দাবি করেছে। এই দাবির সপক্ষে শনিবার সকালের ভয়াবহ হামলার চিত্র তুলে ধরেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। তারা সম্প্রতি একটি স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত ওই স্যাটেলাইট ইমেজে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিশাল প্রাসাদটি ভয়াবহ বোমাবর্ষণের ফলে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এটি এখন কেবলই এক বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই স্যাটেলাইট চিত্রটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার ভয়াবহতাকেই প্রমাণ করে। তবে, খামেনির মৃত্যুর এই খবরটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মনগড়া বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো। ইরানের সুপরিচিত গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ এবং মেহের নিউজ অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং জীবিত রয়েছেন। শুধু তাই নয়, তারা আরও দাবি করেছে যে, তিনি অত্যন্ত সাহসিকতা ও দৃঢ়তার সাথে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ময়দানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এদিকে, প্রভাবশালী কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই পুরো পরিস্থিতিকে একটি তথ্যযুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রয়টার্স ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো যে দাবি করছে, তার সাথে ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবির বিস্তর ফারাক রয়েছে এবং তথ্যগুলো সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী। একদিকে ইসরায়েল খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত বলে প্রচার করছে, অন্যদিকে ইরান বলছে তাদের নেতা সুরক্ষিত আছেন। এই বিপরীতমুখী তথ্যের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে চরম ধোঁয়াশা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ এলাকায় ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার মূল অভিযুক্ত মো. আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের কাছে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ন্যায়বিচারের আবেদন জানায়। সে সময় সংসদ সদস্য এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের চার দিনের মাথায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, জোরারগঞ্জ থানার রঘুনাথপুর এলাকায় সপরিবারে ভাড়া বাসায় থাকেন মো. উজ্জ্বল হাওলাদার, যিনি পেশায় একজন হোটেল কর্মী। গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতের ডিউটি শেষ করে সকালে বাসায় ফিরে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। ওই সময় তার স্ত্রী ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে তাদের ৬ বছরের শিশু কন্যা ফাতেমা আক্তার পাশের বাড়িতে মো. আনোয়ারের ছেলের সঙ্গে খেলতে যায়। দীর্ঘক্ষণ মেয়ের দেখা না পেয়ে মা তাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে আনোয়ারের ঘরের বন্ধ দরজায় ধাক্কা দিলে ভেতর থেকে শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসে এবং জানায় যে, আনোয়ার তার সঙ্গে পাশবিক আচরণ করেছে।
মা লক্ষ্য করেন যে শিশুটির পোশাক ভেজা এবং সে মারাত্মকভাবে জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় আছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে আনোয়ার দেশীয় অস্ত্র (রামদা) হাতে নিয়ে শিশুটির পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেয়। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর সহায়তায় ভিকটিমকে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আলামত ও পোশাক সংরক্ষণের পরামর্শ দেন।
এই ঘটনায় শিশুর বাবা বাদি হয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জোরারগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন মামলার প্রধান আসামি আনোয়ার জোরারগঞ্জ এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে বারইয়ারহাটের খান সিটি সেন্টার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ারের বাবার নাম লাতু মিয়া (প্রকাশ মফিজুর রহমান), তার স্থায়ী ঠিকানা জোরারগঞ্জ থানার পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামে।
আসামিকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে এক বিশেষ দোয়া এবং মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পবিত্র জুমার নামাজের পর বারইয়ারহাট এলাকায় এই আবেগঘন প্রার্থনা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজীর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। মহান আল্লাহর দরবারে হাত তুলে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বারইয়ারহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সম্মানিত খতিব মাওলানা নিজাম উদ্দিন আনছারী। মোনাজাতে আহত সংসদ সদস্যের দ্রুত আরোগ্য লাভের পাশাপাশি দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করা হয়। এই বিশেষ দোয়া মাহফিলে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির বর্তমান সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন কমিশনার, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জসীম উদ্দিন ভেন্ডার এবং নজরুল ইসলাম লিটন। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন হিঙ্গুলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক সোহাগ, বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কামরান সরোয়ার্দী। যুবদল ও ছাত্রদলের তরুণ নেতাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ জিপসন, বারইয়ারহাট পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল আবছার মিয়াজী, সদস্য সচিব ফয়েজ উদ্দিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন টিটু, বারইয়ারহাট পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন এবং বারইয়ারহাট কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম বাদশাসহ আরও অনেক স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এই আয়োজনে শামিল হন। উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন মিরসরাইয়ের এই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কুমিল্লা থেকে নিজ নির্বাচনী এলাকা মিরসরাইয়ের উদ্দেশ্যে ফেরার পথে ফেনী জেলার মোহাম্মদ আলী নামক স্থানে পৌঁছালে তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার সম্মুখীন হন। ওই ঘটনায় তিনি গুরুতরভাবে আহত হলে দ্রুত তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। তার এই আকস্মিক দুর্ঘটনার খবরে পুরো মিরসরাই এলাকা জুড়ে শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে আসে। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন এবং বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের প্রার্থনার আয়োজন অব্যাহত রেখেছেন।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় করতে এবং বাংলাদেশ পুলিশের আভিযানিক সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। এই ধারাবাহিকতায় পুলিশ বাহিনীতে ১০ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগের এক বিশাল ও সময়োপযোগী কর্মযজ্ঞের সূচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পড়ন্ত বিকেলে বাংলাদেশ পুলিশের সদর দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বহু প্রতীক্ষিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। এর ঠিক আগেই, দুপুরবেলা সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এই মেগা নিয়োগ প্রক্রিয়ার কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, রাষ্ট্রের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও জননিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ বাহিনীর জনবল বৃদ্ধি করাটা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারমূলক কাজের একটি। তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনায় অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক ছাড়পত্র পাওয়ার পরপরই কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মাঝে এই বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার মানদণ্ড নিয়ে মন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটিতে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির স্থান এখানে থাকবে না, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই কেবল প্রকৃত ও উপযুক্ত প্রার্থীদের দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়া হবে। কনস্টেবল পদের এই বিশাল নিয়োগের পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও জনবল বাড়ানোর সুখবর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বাহিনীর কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনতে ১৮০টি পুলিশ সার্জেন্ট পদে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) এবং সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) লেভেলেও নতুন জনবল নিয়োগের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা খুব শিগগিরই আলোর মুখ দেখবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। নতুন এই কনস্টেবল পদে আবেদন করতে ইচ্ছুক তরুণ-তরুণীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে, আগ্রহী প্রার্থীকে দেশের যেকোনো সরকার স্বীকৃত শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ন্যূনতম জিপিএ ২.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। বয়সসীমার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে থাকতে হবে, এর কম বা বেশি হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। সর্বোপরি, এই পদে যোগদানের জন্য আবেদনকারীকে আবশ্যিকভাবে অবিবাহিত হতে হবে। সরকারের এই মেগা নিয়োগ প্রক্রিয়া একদিকে যেমন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের শক্তি বহুগুণে বৃদ্ধি করবে, অন্যদিকে তেমনি হাজারো বেকার তরুণের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের এক বিশাল দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
.png)


































%20(7).jpeg)


