your code goes here
Bookmark

রায়পুরে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র আলতাফ মাস্টার ঘাট, বেড়েছে দর্শনার্থীর চাপ

অ+ অ-


 

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় মেঘনা নদীর পাড়ে মানুষের ভিড় বাড়ছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।

উপজেলার জীনের মসজিদ এলাকা, দালাল বাজারের দালানবাড়ি, খোয়া সাগর দীঘির পাড়, চৌধুরী বাড়িসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এর পাশাপাশি নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আলতাফ মাস্টার ঘাট, যা বর্তমানে পর্যটনপ্রেমীদের কাছে আলোচিত একটি গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

একসময় এই ঘাটটি তেমন পরিচিত না হলেও এখন ধীরে ধীরে এটি দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। অতীতে নদীর পাড়ের ভৈরব এলাকা পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আলোচনায় থাকলেও নানা প্রতিকূলতার কারণে তা প্রত্যাশিতভাবে গড়ে ওঠেনি। ফলে এখন অনেকের কাছে নতুন সম্ভাবনার জায়গা হিসেবে দেখা হচ্ছে আলতাফ মাস্টার ঘাটকে।

মেঘনা নদীর তীরঘেঁষা এই ঘাটে মূলত সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতেই সবচেয়ে বেশি ভিড় জমে। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি, আর সন্ধ্যার আগে নদীর পাড়জুড়ে সৃষ্টি হয় এক মনোরম পরিবেশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে অনেকেই নদীর পাড়ে সময় কাটাচ্ছেন। কেউ মাছ ধরার দৃশ্য উপভোগ করছেন, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ধারণ করছেন সূর্যাস্তের দৃশ্য। নদীতীরে গড়ে ওঠা অস্থায়ী রেস্তোরাঁ ও ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতেও ছিল ব্যাপক ভিড়।

স্থানীয় উদ্যোগে কোথাও কোথাও নাগরদোলা ও ছোটখাটো বিনোদনের ব্যবস্থাও গড়ে উঠেছে। অনেককে নদীতে নেমে সাঁতার কাটতেও দেখা গেছে। চরবংশী, টুনুরচর, চরইন্দুরিয়া ও চরজালিয়া এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরের এসব এলাকায় একসময় ব্যক্তি উদ্যোগে বিনোদন ও ব্যবসায়িক কিছু স্থাপনা গড়ে উঠেছিল। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার আলতাফ হোসেন হাওলাদার মেঘনার তীরে বাঁধ নির্মাণ, মাছের আড়ৎ স্থাপন, বৃক্ষরোপণ এবং দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে গত দুই বছরে নদীভাঙনের কারণে এসব স্থাপনার অনেকটাই বিলীন হয়ে গেছে।

রাখালিয়ার খিদিরপুর এলাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী আশিকুর রহমান জানান, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে এখানে এসে তিনি বেশ আনন্দ উপভোগ করছেন। বিশেষ করে সূর্যাস্তের দৃশ্য তাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি আরও বলেন, সময় পেলেই এই নদীর পাড়ের আনন্দমুখর প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে আসেন।

দালাল বাজার থেকে আসা আরেকজন দর্শনার্থী শাকিল হোসেন জানান, তিনি প্রতি মাসে অন্তত একবার এই জায়গায় আসেন। তিনি বলেন, এমন পরিবেশ এই উপজেলায় আর নেই। আরেকজন দর্শনার্থী আতিক হোসেন বলেন, এই জায়গাটি নিয়ে যদি আরও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যায়, বিশেষ করে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে জায়গাটি আরও উৎসবমুখর হবে এবং লক্ষ্মীপুর জেলায় আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ঈদের সময় দর্শনার্থীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, রায়পুরে একটি আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হলে মানুষের বিনোদনের চাহিদা পূরণ হবে এবং একই সঙ্গে এই অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাও বিকশিত হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন