{getBlock} $results={3} $label={রাজনীতি} $type={headermagazine}

নাটোরে পানির ট্যাংকে মিলল ১০ হাজার লিটার ডিজেল

নাটোরের সিংড়ায় বাঁশঝাড়ের নিচে মাটির তলায় লুকিয়ে রাখা ১০ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। তেলের কৃত্রিম সংকটকারী ব্যবসায়ীকে জরিমানা।
প্রকাশঃ
অ+ অ-

জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে রাতারাতি বিপুল মুনাফা লুটে নেয়ার এক অভিনব ফন্দি উন্মোচন করেছে নাটোরের সিংড়া উপজেলা প্রশাসন। মাটির নিচে পানির ট্যাংক পুঁতে, তার ভেতর হাজার হাজার লিটার ডিজেল লুকিয়ে রাখার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরের দিকে উপজেলার নিংগইন এলাকায় পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে এই অবৈধ মজুতের সন্ধান পাওয়া যায়। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, নিংগইন ভাটোপাড়া মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত একটি বাঁশঝাড়ের নিচে অত্যন্ত সুকৌশলে একটি পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছিল। বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় ছিল না যে, এই নীরব বাঁশঝাড়ের নিচেই লুকিয়ে আছে জ্বালানি তেলের বিশাল এক ভাণ্ডার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাতের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান চালায়। মাটি খুঁড়ে সেই ট্যাংকের ভেতর থেকে প্রায় ১০ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে, সততা ট্রেডার্স নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রুবেল হোসেন এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত করেছিলেন। বাজারে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পরবর্তীতে চড়া মূল্যে বিক্রির অসৎ উদ্দেশ্যেই তিনি এই অভিনব পন্থা বেছে নেন বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। এই গুরুতর অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবসায়ী রুবেল হোসেনকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে। সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত গণমাধ্যমকে জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং ঘটনার শতভাগ সত্যতা মিলেছে। অবৈধভাবে মজুত করে রাখা এই বিপুল পরিমাণ তেল জনসমক্ষে আনার পর, জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি ব্যবসায়ীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ১০ হাজার লিটার ডিজেল অবিলম্বে তার দোকানে স্থানান্তর করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রির সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। জনস্বার্থে পরিচালিত এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে ইউএনও ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ এবং উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. তাশরিফুল ইসলামসহ অন্যান্যরা। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের এমন কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন জনবিরোধী অপতৎপরতা অনেকাংশেই রুখে দেওয়া সম্ভব হবে।

একটি মন্তব্য করুন

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন