গ্রেপ্তার অভিযান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গ্রেপ্তার অভিযান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

এবার গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন

প্রতীকী ছবি

এবার কুড়িগ্রাম থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা সাদ্দাম হোসেনসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে পুলিশ অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে। [১৩ ফেব্রুয়ারি] বৃহস্পতিবার সকাল থেকে [১৪ ফেব্রুয়ারি] শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয় জেলার বিভিন্ন স্থানে।

মোঃ মাহফুজুর রহমান কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য। [১৪ ফেব্রুয়ারি] শুক্রবার কুড়িগ্রাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয় গ্রেপ্তারকৃতদের।

সাদ্দাম হোসেন জীবন নামের এক ছাত্রলীগ নেতা রয়েছেন গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে। ৯ নম্বর ওয়ার্ড রৌমারী দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্য তিনি।

মোঃ মাহফুজুর রহমান পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, দেশব্যাপী চলমান অপারেশন ডেভিল হান্ট-এর অংশ হিসেবে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনা চলমান রয়েছে সারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী, পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের গ্রেপ্তার, পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধারের লক্ষ্যে।

ওসি ডিবি মোঃ বজলার রহমান ও কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার বলেন, অপারেশন ডেভিল হান্ট পরিচালনা করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের সকল থানা এলাকায়।

১৭জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এতে, কুড়িগ্রাম জেলায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী, পরিকল্পনাকারী ও সহযোগী। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রৌমারী উপজেলার রৌমারী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুর রউফ [৪০], সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছফিয়ার রহমান [৪৫], রৌমারী দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্য মোঃ সাদ্দাম হোসেন জীবন, চর রাজিবপুর উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম [৪০], রাজারহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আশীষ কুমার সরকার, রাজারহাট টগরাইহাট মুজিব সৈনিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি মোঃ জিয়াউর রহমান [২২], ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম, ভূরুঙ্গামারী আন্ধারীঝার ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ আরিফুল ইসলাম [২৫], নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মফিজুল হক [৪০], রায়গঞ্জ ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য মোঃ শাহাদৎ হোসেন [২৯], উলিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুর রহমান [৫৩], ফুলবাড়ী উপজেলার  নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ নিষিদ্ধ  ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রী শেখ রায়হান পল্লব [২০], ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ গোলাম ওয়াদুদ [৫৫], কুড়িগ্রাম সদরের বেলগাছা ইউনিয়ন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সহসভাপতি মোঃ আ. রহিম ওরফে মেহেদী হাসান নয়ন [২৭], চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও চিলমারী রমনা ইউনিয়ন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ নুর ই-এলাহী তুহিন [৫০], নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য মোঃ সামিউল ইসলাম ওরফে সাগর মিয়া [২৬] ও রমনা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ জাকিউল ইসলাম [৩২]।

হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন

সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন - ফাইল ছবি

সরকার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযানের অংশ হিসেবে সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালিস্ট হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেফতার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।

ওয়ারী থানার উপ-কমিশনার মো. সালেহউদ্দিন বলেন, “আমরা তাকে যাত্রাবাড়ী থানা থেকে শামলীর একটি হাসপাতালে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করি।

এ নিয়ে গত তিন দিনে আওয়ামী লীগের তিন সাবেক মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ক্ষমতাচ্যুত সরকারের জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে শনিবার রাতে ঢাকার ইস্কাটন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন রোববার সন্ধ্যায় সেগুনবাগিচায় সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর এবং সাবেক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও উপদেষ্টাসহ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ২০ জনের বেশি নেতা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে ৫ আগস্ট ভারতের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। তিনদিন পর অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। এরপর একের পর এক গ্রেফতার হন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, শীর্ষ নেতা ও প্রভাবশালী সদস্যরা।

তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সমাজকল্যাণমন্ত্রী দীপু মুনি ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

পঞ্চগড়-২ আসন থেকে ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়া এবং ২০১৯ সালে রেলমন্ত্রী হওয়া চারবারের এমপি নুরুল ইসলাম সুজন সর্বশেষ গ্রেপ্তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিন মারা যান। রেলমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সুজন ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন। পরবর্তীতে তিনি দশম ও একাদশ সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ২০২৪ সালে, তিনি ১২ তম সংসদের নির্বাচনে জয়ী হন, কিন্তু মন্ত্রিসভায় একটি আসন পাননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র সুজন ডাকসুর একাডেমিক সেক্রেটারি ছিলেন।

ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর তিনি যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মহাসচিবও হন।