অমর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার দিবাগত রাতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফেরার পথে তাকে লক্ষ্য করে একদল মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ডা. শফিকুর রহমান তার দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে যখন মঞ্চের পেছন দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই উপস্থিত একদল লোক তাকে উদ্দেশ্য করে ‘একাত্তরের দালালরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ স্লোগান দিতে শুরু করে। এই আকস্মিক ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যেই শহীদ মিনার এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভের মুখে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাবেক আমির গোলাম আযমের স্মরণে পাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। দুই পক্ষের এই উত্তপ্ত বাদানুবাদে শহীদ মিনার এলাকার ভাবগাম্ভীর্য বিঘ্নিত হওয়ার উপক্রম হলে দ্রুত সক্রিয় হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নিরাপত্তা কর্মী ও দলীয় নেতাকর্মীদের বেষ্টনীতে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন ডা. শফিকুর রহমান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রথা ভেঙে শহীদ মিনারে আসা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন:
বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আমার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই আজ এখানে আসা।
তবে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে জামায়াতের পূর্বের অবস্থান বা শরিয়ত সংক্রান্ত বিতর্কিত প্রশ্নগুলো তিনি সুকৌশলে এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো তাদের নৈতিক দায়িত্ব। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
শহীদ মিনার থেকে বিদায় নিয়ে জামায়াত আমির সরাসরি আজিমপুর কবরস্থানে যান। সেখানে তিনি ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং সুরা তিলাওয়াতের মাধ্যমে শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন।
