লন্ডনের একটি সংবাদ সম্মেলনে দুই ব্যক্তি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণা করছেন এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভিডিওর পেছনের ব্যানারে ভারত থেকে মণিপুরের বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘোষণা সংবলিত লেখা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ভাইরাল হওয়া এই পোস্টগুলোর ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে যে, ভারতীয় দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এটি মণিপুরের একটি ঐতিহাসিক ও আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা। তবে গভীর অনুসন্ধানে এই দাবির পেছনে কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে মণিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো স্বীকৃত খবর নেই। বর্তমানে রাজ্যটিতে জাতিগত উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নানা সংবাদ থাকলেও স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে কোনো আন্তর্জাতিক বা সরকারি সূত্র তথ্য দেয়নি। প্রকৃতপক্ষে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটি বর্তমান সময়ের নয় বরং এটি ২০১৯ সালের একটি পুরনো ঘটনার ভিডিও চিত্র।
রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ২০১৯ সালে লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা নিজেদের ‘মণিপুর রাজ্য পরিষদ’-এর প্রতিনিধি দাবি করে একটি প্রবাসী সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই সময় তারা দাবি করেছিলেন যে তারা মণিপুরের মহারাজার পক্ষে এই ঘোষণা দিচ্ছেন। তবে তাদের সেই ঘোষণার কোনো ধরনের সরকারি বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছিল না। এমনকি ভিডিওর ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, পেছনের ব্যানারে স্পষ্টভাবে ‘২৯ অক্টোবর, লন্ডন’ লেখা রয়েছে যা মূলত ২০১৯ সালের ওই সংবাদ সম্মেলনের তারিখ ও স্থানের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে মণিপুর এখনো আইনত ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গরাজ্য হিসেবেই রয়েছে। কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা ভারত সরকার এই ধরনের কোনো স্বাধীনতা ঘোষণার সত্যতা নিশ্চিত করেনি। তাই ‘স্বাধীনতা ঘোষণা করলো ভারতের মণিপুর’ শিরোনামে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। এটি মূলত কয়েক বছর আগের একটি বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার ভিডিও যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে ভুল ধারণা দেওয়া হচ্ছে। ফলে সামাজিক মাধ্যমে এই ধরনের সংবেদনশীল সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যবহারকারীদের আরও সতর্ক হওয়া এবং তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
